Follow palashbiswaskl on Twitter

PalahBiswas On Unique Identity No1.mpg

Unique Identity Number2

Please send the LINK to your Addresslist and send me every update, event, development,documents and FEEDBACK . just mail to palashbiswaskl@gmail.com

Website templates

Zia clarifies his timing of declaration of independence

What Mujib Said

Jyoti Basu is dead

Dr.BR Ambedkar

Memories of Another day

Memories of Another day
While my Parents Pulin babu and Basanti Devi were living

Monday, July 8, 2013

জঙ্গলমহল: কিছু স্মৃতি, কিছু তথ্য

জঙ্গলমহল: কিছু স্মৃতি, কিছু তথ্য

বইটিকে বলা যেতে পারে জঙ্গলমহলে বার বার ফিরে আসা এক বহিরাগতের ডায়রি৷ জঙ্গলমহলের কথা আজ প্রায় প্রতিনিয়তই সংবাদমাধ্যমে শোনা যায়৷ অথচ মাত্র বছর দশেক আগেও বিষয়টা ঠিক এ রকম ছিল না৷ জঙ্গলমহলের কথা এই সেদিনও খোঁজখবর নিতেন মূলত কিছু অত্যুত্সাহী পর্যটক অথবা হাতে গোনা কয়েকটি এনজিও৷ ২০০৪ সালে জঙ্গলমহলেরই একটি গ্রাম আমলাশোলের নাম হঠাত্ সংবাদমাধ্যমে উঠে আসে৷ খবর বেরয় সেখানে আদিবাসী মানুষেরা বছরের পর বছর অভুক্ত আছেন৷ মৃত্যু হচ্ছে অনাহারে৷ সেই নিয়ে খুব একচোট বাকবিতণ্ডা শুরু হয়৷ তত্কালীন শাসক সিপিআই (এম) নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্ট --- যাঁদের সে সময় ছিল জঙ্গলমহলে প্রায় একচ্ছত্র রাজনৈতিক আধিপত্য প্রথমে এ খবর মানতেই চাননি৷ পরে অবশ্য সারা বিশ্বের দৃষ্টি পড়ে আমলাশোলে৷ এই সময়েই লেখকেরও জঙ্গলমহল তথা আমলাশোল যাত্রার শুরু৷ সেই থেকে ২০১২ বার বার তিনি ফিরে গিয়েছেন জঙ্গলমহলের বিভিন্ন এলাকায়৷ ছবিটা কতটা বদলেছে?
২০ অগস্ট, ২০১১ সালে সেই আমলাশোলে ফিরে গিয়েই লেখক যা দেখেছেন তা এ রকম, 'গৃহকত্রী মালতী শবর কয়েকদিন আগে মারা গেছেন৷ বাড়ির কর্তা লুলু শবর মোহন শবরের বাড়িতে বসে মদ খাচ্ছেন৷ আর লুলুর সন্তান-সন্ততিরা? বছর দশেকের তনু একটি বাটি নিয়ে বসে আছে৷ তাতে জল ভর্তি সেই জলে লেবু চিপড়ানো৷ সেই লেবুজল তনু সহ আরও দু'টো ভাইবোন খাওয়ার জন্য হামলে পড়েছে৷ ভাতের বদলে শুধু লেবুজল নিয়ে তিন ভাইবোনে বাঁচার লড়াই চলছে৷' বইটির শেষ অধ্যায়ে আছে ২০১১ সালের এই যাত্রার নাতিদীর্ঘ বর্ণনা৷ বিগত দু'বছরে খুব কি বদলে গিয়েছে ছবিটা? হয়তো নয়৷ তবু লেখকের ধারণা 'নিঃশব্দে কোথাও একটা বিপ্লব চলছে৷ এর জন্য কাউকে গুলি ছুঁড়তে হয়নি৷ এর জন্য কাউকে মরতে হয়নি৷ এর জন্য কোনও মায়ের কোল খালি করতে হয়নি৷' স্পষ্টতই লেখকের ইঙ্গিত মাওবাদী বিদ্রোহের পথে এই নিঃশব্দ বিপ্লব আসছে না৷ এই বইয়ে লেখক যে কেবল ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথাই বলেছেন তা নয়৷ মাঝে মাঝেই তিনি ব্যক্তি থেকে চলে গিয়েছেন ব্যষ্টিতে৷ যেমন প্রথম অধ্যায়ে আমলাশোলের কেন্দোগোড়ার মদন শবরের বাড়ি যাওয়ার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা শেষ করেই দীপককুমার ২০০৪-এর আমলাশোলের অনাহারে মৃত্যু নিয়ে নানা তথ্য তুলে ধরেছেন৷ সেই প্রসঙ্গে যেমন এসেছে সংবাদপত্রে প্রকাশিত বিভিন্ন খবরের উদ্ধৃতি তেমনই আছে মানবাধিকার সংস্থা গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা সমিতির প্রতিবেদনের অংশ৷ যেহেতু আমলাশোলের আদিবাসীদের অনেকেই শবর লেখক পাঠককে পরিচিত করিয়ে দিতে চেয়েছেন শবরদের ইতিহাস ও বর্তমানের সঙ্গেও৷

গোটা বইটি জুড়েই আছে জঙ্গলমহলের এ রকম নানা নৈর্ব্যক্তিক ঐতিহাসিক ও সামাজিক বিবরণ এবং সেই বিবরণে উঠে আসা তথ্যগুলি যে সঠিক যেন তা প্রমাণ করতেই লেখক আমাদের শুনিয়েছেন তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাগুলি৷ এ ভাবেই আমরা বিখ্যাত আদিবাসী বুদ্ধিজীবী রামদয়াল মুণ্ডার বাবা সতীশ মুণ্ডার মুখে শুনতে পাই, 'যত দুঃখ কষ্ট থাক আমাদের আনন্দ ফুর্তি আছে৷ সারা বছর আমাদের নানা পরব৷ পরবের মধ্যেই সব ভুলে থাকে৷' এই ভাবেই আমরা জেনে ফেলি ১লা বৈশাখ চড়ক গাজন দিয়ে এই এলাকার পরবের শুরু৷ জ্যৈষ্ঠে 'রোহিন' হয়৷ আষাঢে় অম্বুবাচি৷ শ্রাবণে গমাপরব৷ ভাদ্রে করমপূজা৷ আশ্বিনে কাঠিনাচ৷ কালিপুজোর আগে গট পূজা৷ কার্তিকে গোহাল পূজা, ইত্যাদি৷ চতুর্থ পরিচ্ছেদে এসে পাই আমলাশোল অঞ্চলে শুরু হওয়া নানা উন্নয়নের কড়চা৷ সেটা ২০০৮৷ মনে রাখা যেতে পারে ততদিনে জঙ্গলমহলের ক্ষোভ জমতে জমতে বারুদের স্তপে পরিণত হয়েছে৷ ২০০৮-এর শেষ থেকেই তা প্রবল প্রতিবাদে ফেটে পড়ে৷ কাজেই এই উন্নয়নের প্রয়াস খানিকটা মরণকালে রাম নামের মতো কি না সে প্রশ্ন থেকে যেতেই পারে৷

এর পর ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গ এসেছে রাজনৈতিক পরিবর্তন৷ এই পরিবর্তনের কী ছবি দেখেছেন জঙ্গলমহলে লেখক? উনত্রিশতম অধ্যায়ে লেখক যে ছবি আঁকেন তা খুব হতাশার নয় --- ২৮ অক্টোবর , ২০১২ আমলাশোলে গিয়ে দেখলাম কেন্দোগোড়ায় স্কুলে যাওয়ার রাস্তায় একটা কালভার্ট হয়েছে৷ ... রাত্রে নতুন পাড়ায় দেখলাম লক্ষ্মীপ্রিয়া মুড়া মুখ বুজে পড়ছে৷ ... ও মেদিনীপুর নার্সিং কলেজে বিএসসি নার্সিং-এর ছাত্রী৷ ... পরের দিন কলকাতায় ফিরব৷ ... আমাদের সঙ্গে কলকাতায় এল মুখি আর ফুলমণি শবর৷ রাস্তায় ওদের কথা শুনছি৷ ওরা এখন অনেক সরব৷

No comments: